তুরস্কে শিক্ষা বৃত্তির আবেদন শুরু

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম তুরস্ক। এর পেছনের কারণ হিসেবে প্রথমেই তাদের উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার কথাই চলে আসে। কেননা দেশটি খুব অল্প সময়ে উচ্চ শিক্ষার মানের দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। তাই বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের অন্যতম টার্গেট তুরস্ক।

অন্যদিকে উচ্চ শিক্ষা নেয়ার সুযোগ করে দিতে তুরস্ক সরকারও বরাবরই উদার। দেশটির বৈদেশিকবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতি বছরই বিশ্বের ৯৩টি দেশের ৫ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি দিয়ে থাকে।

চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তুরস্কে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি এবং গবেষণা-মোট চারটি বিভাগের বৃত্তি আবেদন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে স্নাতকোত্তার এবং পিএইচডির জন্য আবেদন করতে পারবে। অন্যদিকে এপ্রিলে শুরু হবে স্নাতক পর্যায়ের আবেদন।

ভৌগোলিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে দশম। ‘ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিংয়ে’ তুরস্কের ৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে পৃথিবীর প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়।

দেশটির উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনার পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান শিক্ষাও তুলনামূলকভাবে এগিয়ে। তবে এখানে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীরা মেডিকেল-ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়াও নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের জন্য ৯০ শতাংশ এবং অন্যান্য বিষয়ের জন্য ৭৫ শতাংশ মার্ক দেখাতে হয়।

তুরস্কে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যেই বেশ সুনাম অর্জন করেছে। ছবি: লেখক

তুরস্কে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যেই বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। ছবি: লেখক

তুরস্কে ৮১টি শহরে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১০৫টি। শিক্ষা বৃত্তিতে আসা শিক্ষার্থীরা এসব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়া, টিওশন ফি থেকে শুরু করে দেশে আসা-যাওয়ার বিমান টিকেটও সরকারিভাবে দেয়া হয়।

৪ বছরের মূল স্নাতক কোর্সের সাথে এক বছরের তুর্কি ভাষা শিক্ষা কোর্স করতে হয়। তবে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডির কার্যক্রম ৩ ও ৫ বছরের মধ্যেই শেষ করতে হয়।

চলতি বছরের বৃত্তি আবেদন করতে হবে দেশটির সরকারি ওয়েবসাইট https://www.turkiyeburslari.gov.tr এই ঠিকানায়।

আর আবেদন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ভিসা পর্যন্ত সকল ধাপই সম্পন্ন করা যাবে একদম বিনা মূল্যে। আবেদনের পর প্রাথমিক বাছাইকৃতদের বাংলাদেশে তুরস্কের দূতাবাসে মৌখিক পরীক্ষায় পাস করার পরে ভিসা আবেদন করতে হয়। আর আবেদন থেকে শুরু করে তুরস্কে এসে পৌঁছানো পর্যন্ত সব কার্যক্রম শেষ করতে ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগে।

Leave a Reply